জাতীয় নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা।

 

জাতীয় নির্বাচন ২০২৫ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "আমি বারবার আপনাদের কাছে আবেদন জানিয়েছি, সব প্রধান সংস্কার সম্পন্ন করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য। তবে, রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে যদি, আবার বলছি ‘যদি’, অল্প কিছু সংস্কার করেই ভোটার তালিকা নির্ভুলভাবে তৈরি করে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়, তাহলে ২০২৫ সালের শেষের দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব হতে পারে।"

আর যদি এর সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত মাত্রার সংস্কার যোগ করি তাহলে অন্তত আরো ছয় মাস অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, "এখন থেকে আমরা সবাই মিলে এমন একটি ঐতিহ্য গড়ে তুলতে পারি, যেখানে স্থানীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে প্রথমবারের ভোটাররা প্রায় ১০০ শতাংশ ভোটদান নিশ্চিত করবে। যদি এটি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার সাহস করবে না।"

দুইটি কমিশনের সুপারিশের ওপর নির্বাচনের প্রস্তুতি ও তারিখ নির্ভর করছে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা সেটি বাস্তবায়নে প্রতিটি কমিশনই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

"তবে, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের বিষয়টি আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, কারণ এই দুটি কমিশনের সুপারিশের ওপরই আমাদের আগামী নির্বাচন প্রস্তুতি ও তারিখ নির্ভর করছে," বলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি আরও বলেন, "এ বিষয়ে বড় খবর হলো, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পুরো নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পন্ন হয়েছে। কমিশন ইতিমধ্যেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এখন থেকে ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব তাদের হাতে ন্যস্ত হলো।

তারা ইতোমধ্যেই তাদের প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছেন। তবে, তাদের সামনে অনেক কাজ বাকি।"

ড. ইউনূস বলেন, "প্রথম এবং সবচেয়ে বড় কাজ হলো ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা। এটি এমনিতেই কঠিন কাজ, আর এখন আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ গত তিনটি নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না।

ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই করার সুযোগও কেউ পায়নি। গত ১৫ বছরে যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য হয়েছে, তাদের সবার নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর এখানে কোনো ত্রুটি রাখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন পর এবার অনেক তরুণ-তরুণী জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পারবে। অতীতে তাদের এই অধিকার ও আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। তাই এবারের নির্বাচনে তাদের ভোটদান একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। এই অভিজ্ঞতাকে মসৃণ করার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।"

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, "এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের ভোটার তরুণ-তরুণীরা প্রায় ১০০ শতাংশ ভোট দিয়ে একটি নতুন ঐতিহ্য গড়ে তুলুক। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমার আহ্বান—সবাই যেন একসঙ্গে সৃজনশীল কর্মসূচি গ্রহণ করে এই লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত করি।"

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "এবার আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই। অতীতে এ নিয়ে বহু আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। এই সরকারের আমলে এটি যেন প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হয়, তা নিশ্চিত করতে চাই। এজন্য একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "সবকিছুই সময় সাপেক্ষ। এর সঙ্গে যদি আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করতে চাই এবং নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে চাই, তাহলে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরিধি ও গভীরতার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ সময় দিতে হবে।"

Post a Comment

Previous Post Next Post